বাংলাদেশ-জাপান আইটি বিটুবি অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) ও জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে রবিবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ-জাপান আইটি বিটুবি বৈঠক। জাপানে বাংলাদেশি আইটি প্রফেশনালসদের সহযোগিতায় বেসিসের ১৩টি সদস্য কোম্পানি প্রায় ২৫টি জাপানী কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকে তাদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরেন। এনটিটি ডাটা, ফাস্ট রিটেইলিং, কোয়ালকমের মতো স্থানীয় প্রসিদ্ধ কোম্পানিগুলো এতে অংশ নেয়। ব্যবসায় যোগাযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি বৈঠকে কয়েকটি পারস্পরিক ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পন্ন হয়।

এ বৈঠক মূলত বাংলাদেশী আইটি কোম্পানীগুলোর জন্যে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের বৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি বাজার সৃষ্টির দ্বার উন্মোচন করলো। অপরদিকে জাপানী আইটি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের মতো একটি দ্রুত বর্ধমান ও সম্ভাবনাময় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে বিনিয়োগে প্রকৃত অর্থেই আগ্রহী মনোভাব প্রকাশ করছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, বেসিস সভাপতি শামীম আহসান ও জেট্রোর জ্যেষ্ঠ পরিচালক তাকাসি সুজুকি পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন বেসিসের মাহসচিব উত্তম কুমার পাল, প্রাক্তন সভাপতি মাহবুব জামান প্রমুখ।

বেসিস প্রতিনিধিদল ও জাপানের আইটি কোম্পানিকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তার বক্তব্যে বাণিজ্যিক প্রসার ও বিনিয়োগের লক্ষ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জাপানী কোম্পানিগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখার জন্য তাদেরকে বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানান।

বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি জাপানী কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং বেসিস ও সরকারের ব্যবসাবান্ধব সহযোগিতার কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশি কোম্পানির মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ দূতাবাস এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে এবং উভয় দেশের কোম্পানিগুলোর মধ্যে পরবর্তী যোগাযোগে সহযোগিতা করবে। এছাড়াও বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী কোনো আইটি ইভেন্টে জাপানী প্রতিনিধিদল পাঠানোর ব্যাপারে জেট্রো প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি জাপানী প্রফেশনাস গ্রুপ বেসিসের সহায়তায় ঢাকায় জাপানী তথ্যপ্রযুক্তি বাজার ও এর সম্ভাবনা নিয়ে সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি উভয় দেশের আইটি ববসা সম্প্রসারণে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।